Wednesday, 12 April 2017

আদর্শ ছাত্রের বৈশিস্ট্য :



প্রসঙ্গ কথা :
শুধু দিন-রাত লেখা-পড়া করলেই কিংবা বইয়ের শুরু থেকেশেষ পর্যন্ত মুখস্থ করলেই আদর্শ ্ছাত্র হওয়া যায় না । তার জন্য প্রয়োজন, কতিপয় নিয়ম-কানুন মেনে চলা । কারণ প্রতিটি কাজই সুনির্দিষ্ট নিয়মানুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে । ছাত্রদের ভবিষ্যত জীবনকে সুন্দর, সফল ও গৌরবোজ্বল করে গড়ে তুলতে হলে তাদের কতিপয় নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয় । তাই আদর্শ ছাত্র হওয়ার জন্য নিম্নে সংক্ষিপ্তভাবে কতিপয় নীতিমালা আলোচিত হলো ।
০১. জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য ( Aim of life ) স্থির করণ :
একজন ছাত্রকে শিক্ষাজীবনের শুরুতেই জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য কি হবে তা ঠিক করে নিতে হবে । আমি কি হতে চাই ? একজন শিক্ষাবিদ, সুবিজ্ঞ আলেমে দ্বীন, ইতিহাসবেত্তা, অর্থনীতিবীদ, সমাজসেবী, বিজ্ঞানী না অন্য কিছু ? কারণ লক্ষ্যহীনভাবে কোন কাজে সাফল্য অর্জন সম্ভব নয় ।
০২. দৃঢ় ইচ্ছা ও বিশ্বাস : ( Confidence and strong tendency )
বিশ্বাস ও দৃঢ় ইচ্ছা হচ্ছে আত্মার খোরাক ।শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনে এটি জ্বালানী শক্তি হিসেবে কাজ করে । বিশ্বাস হতে চিন্তা এবং চিন্তা হতে কার্যের উৎপত্তি । প্রত্যেক মানবের কার্যই তার বিশ্বাসের অনুরূপ হয়ে থাকে । যে মনে আত্মবিশ্বাস ও উচ্চাকাংখা নেই সে মনে কোন তেজ ও নেই । বিশ্বাস ও উচ্চাকাংথা দ্বারা কর্মস্পৃহা ও মনোবল জাগ্রত হয় । বিশ্বাস ও আশা মানুষের মনে কর্মশক্তি যোগায় । সামনে এগোতে করে অনুপ্রাণীত । হতাশা ও নিরাশা মানুষকে করে হতোদ্যম । কেড়ে নেয় তার কর্ম শক্তি ও প্রাণচাঞ্চল্য । তাই নৈরাশ্যের চেয়ে বড় রোগ মানব জীবনে আছে বলে আমার জানা নেই ।
কবি যথার্থই বলেছেন-
বিশ্বাস আর আশা যার নাই যেও না তার কাছে 
নড়াচড়া করিয়াও জ্যান্ত মরিয়া গিয়াছে সে 
শয়তান তার শেষ করিয়াছে , ঈমান লইয়াছে কেড়ে 
প্রাণ গিয়াছে মৃতপুরীতে ভয়ে তার দেহ ছেড়ে ।
ডা: লুৎফর রহমান বলেছেন –“ আমরা যা হতে চাই, তাই হতে পারি । এই
হতে চাওয়ার ইচ্ছা খুব দৃঢ় ও ইস্পাত কঠিন হওয়া চাই ।
নিজেকে আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তোলার অনুশীলন করতে হবে ।
জনৈক মনীষী বলেছেন : Nothing is impossible to a willing mind. অর্থাৎ- ইচ্ছার কাছে কোন কিছুই অসম্ভব নয় ।
জর্জ বার্নার্ডস বলেছেন : সুদৃঢ় ইচ্ছা বা আকাংখা হচ্ছে সফলতার পূর্বশর্ত ।
ইউলিয়ম হ্যাজলিট বলেছেন :
if you think you can win, You can win. Faith is necessary to vectory . অর্থাৎ- যদি তুমি মনে কর তুমি জিতবে, তবে তুমি জিতবেই, বিজয়ের জন্য জরুরী হলো বিশ্বাস ।
নিজেকে আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তোলার অনুশীলন করতে হবে ।
ছাত্রকে সর্বদা এ আশা পোষণ করতে হবে যে, যদি কেও পরীক্ষায় মেধা তালিকায় প্রথম হয়, সেটা অবশ্যই আমাকে হতে হবে । শুধু পরীক্ষায় পাশের চিন্তা করলে লিখা-পড়ায় গতি সঞ্চার হবে না ।

০৩. অধ্যবসায়ী ( Persevering ) হওয়া :
ভাল ছাত্র হতে হলে তাকে অবশ্যই অধ্যবসায়ী হতে হবে ।
অধ্যবসায় বলতে বুঝায়-কোন কাজে সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যে বা কাংখিত লক্ষ্যে পৌছার লক্ষ্যে নিবিষ্ট মনে অবিরাম গতিতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া ।
অনেকে মনে করেন - মেধাবী ও জ্ঞানী হওয়াটা আল্লাহর দান । কথাটা পুরোপুরি ঠিক নয় । কারণ, শুধু মেধা থাকলেই হবে না । সে যদি অধ্যবসায়িী না হয়, তবে তার মেধার বিকাশ ঘটবে না।
কবি যথার্থই বলেছেন :
হউক না কোন কাজ যতই কঠিন 
ধরিয়া থাকিলে সিদ্ধ হবে একদিন ।
ঈগল পাখির মতো তুমি সাহস রাখো বুকে 
শিকার এবং বিজয় দুটো আসবে উৎসুকে ।
ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে - Do or die . 
অর্থাৎ- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীরের পতন ।
কথায় বলে যে,
তরুলতা সহজেই তরুলতা, পশুপক্ষী সহজেই পশুপক্ষী, কিন্তু মানুষ প্রাণপন চেষ্টায় তবেই মানুষ ।
আলক্বুআনে বর্ণিত হয়েছে : وان ليس للانسان الا ما سعى অর্থাৎ- চেষ্টা ছাড়া কোন কাজেই সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয় ।
কথায় বলে - “ Industry is the mother of good luck. ” অর্থাৎ- পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি ।
ডা: লুৎফর রহমান বলেছেন : যে সমস্ত মানুষ ব্যর্থতাকে ভয় করে না, জয়ী হবে এ বিশ্বাসে কাজ করে , তারাই জয়ী হয় ।
পন্ডিত বোপদেবের ঘটনা :
পন্ডিত বোপদেব বা্ল্যকালে মেধাবী ছিলেন না । লিখা-পড়ায় খারাপ হওয়ায় তার শিক্ষকগণ প্রায়শই তাঁকে মারধর ও ভৎর্সনা করতেন । বাড়িতেও পিতা-মাতা সুনজরে দেখতেন না । মনের দু:খে বাড়ি ছেড়ে অজানা পথে পাড়ি জমালেন । পথিমধ্যে আহার করার জন্য এক পুকুর ঘাটে বসে পড়লেন । হটাৎ দেখতে পেলেন, জনৈকা মহিলা পুকুর হতে কলসে পানি ভর্তি করে সেই কলসটি একটি পাথরের উপর রাখলো । কিছুক্ষণ পর সেই মেয়েটি সেখান থেকে প্রস্থান করলে বোপদেব দেখতে পেলেন , মটির কলসে ক্রমাগত ঘর্ষণে কঠিন পাথরেও গর্ত হয়ে গেছে । সেই দৃশ্য অবলোকন করে বোপদেবের চেতনা ফিরে এলো । তিনি আত্মপ্রতিষ্ঠার জন্য নবচেতনা ও বিশ্বাস ফিরে পেলেন । তিনি চিন্তা করতে লাগলেন : আমিও যদি কলসের ঘর্ষনের ন্যায় আমার তথাকথিত পচাঁ ব্রেনটাকে অধ্যবসায়ের ঘর্ষণ দিতে পারি , তাহলে আমার প্রতিভারও বিকাশ ঘটতে পারে । এরপর অবিরাম গতিতে নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার ফলে সত্যি তার আশা পূর্ণ হলো । এর ফলশ্রুতিতে তিনি বিশ্ব খ্যাত পন্ডিত বোপদেব বলে খ্যাতি অর্জনে সক্ষম হন ।
০৪. রুটিন মাফিক পড়াশুনা করা : ( Study by rutine )
ছাত্রকে প্রতিদিন রুটিন মাফিক পড়াশুনা করতে হবে । পাঠ্যপুস্তক সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পূর্ণভাবে প্রস্তুতি গ্রহণের লক্ষ্যে একটি রুটিন প্রনয়ন করত: তা পড়ার টেবিলের সামনে লটকিয়ে রাখতে হবে । দিন-রাতের সময়গুলোকে ভাগ করে নিয়ে রুটিন তৈরী করতে হবে । রুটিন মাফিক পড়াশুনা করলে সবগুলো বিষয় পরিপূর্ণভাবে প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হবে।
০৫. নিয়মানুবর্তিতা ( Punctuality ) :
শিক্ষাজীবনে নিয়মানুবর্তিতার অনুসরণ করা অতিব জরুরী । এটি আদর্শ ছাত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য । ২৪ চব্বিশ ঘন্টার সময়গুলোকে ভাগ করে সঠিকভাবে তা ভাগ করতে হবে । রুটিন মাফিক পড়াশুনা করা, সময়মত শিক্ষা প্রতিস্ঠানে গমন ও প্রত্যাগমন, শারীরিক ব্যায়াম বা খেলা-ধুলা,পানাহার, বিশ্রাম ইত্যাদি ক্ষেত্রে নিয়মানুবর্তিতার অনুসরণ করতে হবে

০৬. হাতের লেখা ভাল করা বা ( Writing skill ) আপগ্রেড করা :
পরীক্ষায় বেশী নম্বর পাওয়ার জন্য হাতের লেখা সুন্দর করা আবশ্যক । কারণ পরীক্ষক যখন উত্তরপত্র মূল্যায়ন করবেন , ঐ সময় যদি তার চোখের সামনে উজজ্বল , সুন্দর ও ঝকঝকে লেখা ভেসে ওঠে , তখনসত্যিই তার মনের মাঝে আনন্দের দোলা দেবে । খুশিতে ভরে উঠবে তার মন । ঐসময় পরীক্ষক আনন্দের আতিশয্যে নম্বর ও দেবেন বেশি । তাই বলে উত্তর অপ্রাসঙ্গিক বা ভুল হলে শুধু ভাল লেখায় কাজ হবে না ।
উল্লেখ্য যে, যার হাতের লেখা ভাল ,তার লেখার অনুকরণ করলে লেখা সুন্দর করা যায় ।
০৭. নকল প্রবনতা ( Copying tendency ) পরিহার করা :
নকল প্রবনতা প্রকৃত শিক্ষার পথে বড় অন্তরায় । নকল প্রবনতা একটি জাতীয় ব্যধি ও প্রাণসংহারক বিষ । নকল প্রবনতাশিক্ষার্থীর জীবনে চরম অবক্ষয়ের সূচনা করে । এই অপরাধ প্রবনতা তাদেরকে দ্রুত ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয় । নকল করে নকলিস্ট হওয়া যায় কিন্তু জ্ঞান অর্জন করা যায় না । নকল করে কৃতিত্বের সাথে পাশ করার মধ্যে কোন গৌরব নেই ,আছে শুধু আত্মপ্রবঞ্চনা ও ব্যর্থতার আত্মগ্লানি । তাই ভাল ছাত্র হওয়ার জন্য নকল পরিহার করা একান্ত জরুরী
০৮. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ( Net and clean ) থাকা :
সদাসর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা প্রত্যেকছাত্রের কর্তব্য । বাহ্যিক মলিনতা মানসিক মলিনতা সৃষ্টি করে । বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতার সহিত আত্মিক পরিচ্ছন্নতা তথা সচ্চরিত্রের অধিকারী হতে হবে । সচ্চরিত্রের অধিকারী হতে হলে ইসলামী আদর্শের অনুসারী হতেহবে ।
০৯. শারীরিক অনুশীলন ( Physical exercise ) নিয়মিত করণ :

কথায় বলে- Health is wealth-অর্থাৎ-স্বাস্থ্যই সম্পদ । শরীর ভাল না থাকলে মন ও ভাল থাকে না । তাই শারীরিক ও মানুষিক বিকাশের লক্ষ্যে বিকালের পড়ন্ত বেলায় শরীয়াহ সম্মত বিনোদন , খেলাধুলা , একটুপায়চারী, শারীরিক ব্যায়াম, সমাজ সেবামূলক কর্মকান্ড , মননশীল ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক চর্চা কিংবা পারিবারিক কোন কাজে ব্যয় করা উচিত । ভরাপেটে ও বিকাল বেলা পড়ালেখা করা উচিত নয় । এতে দৃষ্টিশক্তি ও স্মৃতি শক্তি উভয়েই লোপ পেতে পারে ।
১০. গভীর মনোযোগী ( Attentive ) হওয়া :
ভাল ছাত্র-ছাত্রী হতে হলে পড়া-লিখায় মনোযোগী হতে হবে । জ্ঞান শিক্ষার প্রতি মনের মধ্যে অনুরাগ ও পিপাসার সৃষ্টি করতে হবে । একটি কথা মনে রাখতেহবে যে, জল এগোয় না পিপাসায় জলের কাছে এগিয়ে নিয়ে আসে । গভীর মনোযোগের মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি অনুসন্ধানী দৃষ্টিও প্রখর হয় । এর মাধ্যমে সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী প্রতিভা বিকশিত হতে থাকে ।
আলক্বুরআনে ইরশাদ হয়েছে :
ما جعل الله لرجل من قلبين فى جوفه
অর্থাৎ- একজন মানুষের মাঝে আল্লাহ তায়ালা দুটি অন্তর দান করেননি ।
মনের চিন্তা ভাবনা ও ঝোক প্রবনতা যখন একদিকে যায়, তখন আর এক দিক থেকে খালি হয়ে যায় । বিক্ষিপ্ত মন, তরল চিন্তা, কুচিন্তা ও খামখেয়ালীপনা নিয়ে পড়া-লিখা হয় না । একমন এক খেয়াল এক লক্ষ্য নিয়ে পড়াশুনা করতে হবে । তাহলে সাফল্যের পুষ্পমাল্য গলে পরা সম্ভব হবে ।
ডা: লুৎফর রহমান বলেছেন : তুমি যদি তোমার কর্মে সাফল্য অর্জন করতে চাও, তবে সমস্ত মন তোমার কর্মে ঢেলে দাও
মনীষীদের বাণী :
Don't to attend to two things at a time . অর্থাৎ- একই সময়ে দুই বিষয়ে মন দিও না ।
১১. সময়ানুবর্তিতা ( সময়ের সদ্ব্যবহার ) :
সময় অমূল্য সম্পদ । সময় হাতছাড়া হলে আর ফিরে পাওয়া যায় না । আরবীতে একটি প্রবাদ আছে-
الوقت لا ينتظر لاحد
অর্থাৎ- সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না ।
ফারসী ভাষায় একটি প্রবাদ আছে :
وقت از دست رفته و تير از كمان جسته باز نمى أيد -
অর্থাৎ- যে সময়টি হাতছাড়া হলো, আর যে তীরটি ধনুক থেকে নিক্ষিপ্ত হলো, এদুটো জিনিস কখোনো স্বস্থানে ফিরে আসে না ।
ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে :
Time and tide wait for none. অর্থাৎ- সময় ও শ্রোত কার ও জন্য অপেক্ষা করে না ।
উল্লেখ্য যে সময়ের অপচয় করে মানুষ যেরূপ ক্ষতিগ্রস্থ হয়, সেরূপ আর কিছুতে হয় না । সময়ের অপচয়ের কারণে একটি সম্ভাবনাময় জীবন অংকুরেই বিনষ্ট হয় ।
মনীষী স্মাইলস বলেছেন :
পরিশ্রম দ্বারা হারানো সম্পদের ক্ষতিপূরণ করা সম্ভব হতে পারে, পাঠের দ্বারা ভুলে যাওয়া জ্ঞান অর্জিত হতে পারে, ঔষধ বা চিকিৎসা দ্বরা হারানো স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে কিন্তু হারানো সময় চিরদিনের জন্য হারিয়ে যায়, আর ফিরে পাওয়া যায় না ।
এজন্য বলা হয়ে থাকে :
“ Make hay while the sun shines . ” অর্থাৎ- সময় থাকতে কাজ গুছিয়ে নাও ।
আরও বলা হয় :
Life is short but art is long. অর্থাৎ- জীবনটা সংকীর্ণ কিন্তু কর্ম ব্যাপক ।

শিক্ষাজীবন হচ্ছে আত্মগঠনের প্রকৃত সময় । শিক্ষা জীবনে যারা সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে, তাদের জীবনেই সাফল্যে ভরে ওঠে । তারাই কর্মক্ষেত্রে রাখে দৃপ্ত পদচারনা । তাদের পেয়েই দেশ ও জাতি ধন্য হয় । আর যে সব শিক্ষার্থী সময়ের সদ্ব্যবহার কেরতে জানে না , তারা জীবনে সাফল্য অর্জন করতে ব্যর্থ হয় । তাই জীবনে সাফল্য অর্জন করতে হলে সময়ের সদ্ব্যবহার করা অতীব জরুরী ।

১২. শৃংখলা ও আনুগত্য ( Discipline and Obedience ) :
শৃংখলা ও আনুগত্য শিক্ষা জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য । শৃংখলা ও আনুগত্য হচ্ছে উন্নয়নের চাবিকাঠি । এই মহাবিশ্বে যা কিছু দৃশ্যমান এবং অদৃশ্যমান সৃষ্টি রয়েছে, 
সবকিছু একটি বিশেষ শৃংখলে আবদ্ধ । প্রকৃতির কোথাও অনিয়ম ও বিশৃংখলা নেই । চন্দ্র-সূর্য , গ্রহ-নক্ষত্র, রাত-দিনের আগমন- প্রত্যাগমন , সময়ের আহ্নিকগতি ও বার্ষিকগতি মোটকথা সবকিছু একটি সুনিদিষ্ট নিয়মে আবর্তিত হচ্ছে ।

বিজ্ঞানী নেপলিয়ান বলেছেন :
“ Discipline is the keystone to success is compulsory to follow to balance the systems. "
অর্থাৎ- সাফল্য অর্জনের জন্য নিয়ম শৃংখলার অনুসরণ হলো সাফল্যের ভিত্তি ।
এম, কে গান্ধী বলেছেন :
“ Discipline maintains systems, Systems maintain development, Development vibrates human life, So discipline must be followed.”
অর্থাৎ- শৃংখলা নিয়ন্ত্রন করে নিয়মানুবর্তিতাকে, নিয়মানুবর্তিতা নিয়ন্ত্রন করে উন্নয়নকে, উন্নয়ন স্পন্দিত করে মানব জীবনকে , অতএব নিয়ম শৃংখলার অনুসরণ অত্যাবশ্যক ।
একজন স্টুডেনকে নিয়ম শৃংখলা অনুসরনের পাশাপাশি পিতা-মাতা , গুরুজনের আনুগত্য করা অত্যাবশ্যকীয় কর্তব্য ।
১৩. ‍Spoken skill আপগ্রেড করতে হবে :
একটি ভাষা আয়ত্ব করনের উপায় আমি আমার টাইম লাইনের শিক্ষার্থীর জন্য আবশ্যকীয় মেসেজ শীর্ষক প্রবন্ধে আলোচনা করেছি । অনুগ্রহপূর্বক সেখানে দেখে নেওয়ার জন্য বিণীত অনুরোধ করছি ।
১৪. শিক্ষক ক্লাসে পাঠদান কালে গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনা :

শিক্ষক মহোদয় ক্লাসে পাঠদান কালে তাদের লেকচার গভীর মনোযোগ সহকারে শুনতে হবে । প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল বিষয় কিংবা অজানা শব্দের অর্থ একটি নোট বুকে নোট করে নিতে হব ।
শিক্ষকের পাঠদানের বিষয়বস্তু ভালভাবে অনুধাবন করতে হবে ।যদি কোন বিষয়ে অস্পষ্টতা থাকে, তাহলে শিক্ষকের নিকট জিজ্ঞেস করে সে সম্পর্কে স্বচ্ছধারণা ও উপলব্ধি অর্জন করতে হবে ।
১৫. অনুকুল পরিবেশ ( Favourable environment ) :
কথায় বলে:
মানুষ গড়ার আঙ্গিনায় 
মানুষ গড়ার পরিবেশ চাই ।
সন্তানকে আদর্শবান ও সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হলে তার জন্য চাই অনুকুল পরিবেশ । এই অনুকুল পরিবেশ দরকার যেমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, তেমনি প্রয়োজন 
নিজ বাড়িতে । কারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্তানটি অবস্থান করে ২৪ ঘন্টার মধ্যে মাত্র ৫-৬ ঘন্টা । বাকি সময়টুকু অতিবাহিত করে বাবা- মার কোলে । এ জন্য বলা হয়ে থাকে - পিতা-মাতার কোলেই হলো সন্তান গড়ার আসল পাঠশালা ।সন্তান বাসায় অবস্থিত ১৮-১৯ ঘন্টার সময়গুলো কিভাবে ব্যয় করবে, তার তদারকি করার দায়িত্ব পড়ে পিতা-মাতার উপর ।
সন্তানকে শিক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে পিতা-মাতার কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য :
* বাড়িতে অবস্থান কালিন সময়গুলো লিখাপড়ার কাজে ব্যবহার করার স্বার্থে একটি রুটিন তৈরী করে দিতে হবে । সন্তান রুটিন মাফিক পাঠ প্রস্তুতি সম্পন্ন করলো কিনা, সে ব্যাপারে নজরদারি রাখতে হবে ।
* একাডেমিক পাঠ প্রস্তুতির লক্ষ্যে প্রয়োজনে একজন টিউটর বা প্রায়ভেট টিউশনের ব্যবস্থা করে দিতে হবে ।
*হোমওয়ার্ক বা বাড়ির কাজ থাকলে তা সঠিকভাবে আদায় করলো কি না, তা খোঁজ-খবর নিতে হবে ।
* পড়াশুনার কতটুকু অগ্রগতি হচ্ছে তা বিশেষভাবে তদারকি করতে হবে ।
* শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রেগুলার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে ।
* ছেলে-মেয়েদের নিয়মিত ছালাত আদায়ে অভ্যস্ত করাতে হবে ।
* ছেলে-মেয়েদের উত্তম শিষ্টাচার শিক্ষা দিতে হবে ।

১৬. শিক্ষা সফর ( Education tour ) :
শিক্ষার গ্রন্থ জগত দুই প্রকার ।
০১.পাঠ্য পুস্তক তথা পুথিগত বিদ্যা ।
০২. বাইরের গ্রন্থ জগত তথা প্রকৃতি ও সৃষ্টিজগত থেকে শিক্ষা ।
ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠ্য পুস্তক তথা পুথিগত জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি প্রকৃতি অর্থাৎ সৃষ্টি জগতের বিশাল গ্রন্থ জগত থেকে জ্ঞান অর্জন করতে হবে । কারণ এ মহাবিশ্ব তথা সৃষ্টি জগতের প্রতিটি পরদে পরদে শিক্ষার উপকরণ রয়েছে । অনুসন্ধানী দৃষ্টিতে সৃষ্টি জগতকে পর্যবেক্ষণ করতে হবে ।
কবি যথার্থই বলেছেন :
দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা 
দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু ,
দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া 
ঘর হইতে শুধু দুই পা মেলিয়া 
একটি ধানের শীষের উপর 
একটি শিশির বিন্দু ।
শুধুমাত্র পুথিগত জ্ঞান অর্জনের মধ্যে শিক্ষা অর্জনকে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না ।
এতে মেধার বিকাশ ঘটবে না ।
এ পর্যায়ে কবি বলেছেন :
পুথিগত বিদ্যা পর হস্তে ধন 
নহে বিদ্যা নহে ধন হলে প্রয়োজন ।
ছাত্র-ছাত্রীদেরকে প্রকৃতির বিশাল গ্রন্থ জগত থেকে বাস্তবমূখী জ্ঞান অর্জন করার লক্ষ্যে তাদের মাঝে মাঝে শিক্ষা সফর করতে হবে ।
কবির ভাষায় :
বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর সবার আমি ছাত্র 
সবার কাছে নিত্য নতুন শিখছি দিবারাত্র । 
এই পৃথিবীর বিরাট খাতায় পাঠ্য যে সব পাতায় পাতায় 
শিখছি সেসব কৌতুহলে নেই দ্বিধা লেশ মাত্র ।
১৭. আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করা ( ‍ Pray to Allah ) :

উপর্যুক্ত গুণাবলী অর্জন করার পর নিজেকে সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ছাত্রকে অবশ্যই আল্লাহর নিকট দোয়া করতে হবে । কারণ আল্লাহর অনুগ্রহ ছাড়া কোন কিছুই অর্জন সম্ভব নয় ।

Sunday, 9 April 2017

একাডেমিক পাঠপ্রস্তুতি কল্পে একনজরে আবশ্যকীয় করণীয় :


sazu

অধ্যয়নের শুরুতে তাআউউয ও তাসমিয়া তথা আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাযিম এবং বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পাঠ করে শুরু করা ।
এরপর স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা করে দোয়া পাঠ করা দোয়াটি নিম্নরূপ :
رب زدنى علما، رب يسر ولا تعسر وتمم بالخير، رب اشرح لى صدرى ويسر لى امرى واحلل عقدة من لسانى يفقهوا قولى
অন্তত: ৫-১০ মিনিট কুয়ান্টা মেডিটেশনের অনুশীলন করা :
কুয়ান্টা মেডিটেশন সাইক্লোজি সাইন্সের একটি মেথডকে বুঝায় । আপনি পদ্মাসনে বসে দুই হাতের বৃদ্ধাঙ্গলী তর্জনী আঙ্গুলের সাথে লাগিয়ে গভীর ধ্যানের সাথে মনে মনে কিছু ইতিবাচক বাক্য আওড়াতে থাকবেন এভাবে যে, আমি এখন যা পড়বো, তা আমার স্মৃতিতে মনে থাকবে । পরবর্তিতে যখন প্রয়োজন হবে, তখন উহা বলতে ও লিখতে পারবো । এভাবে কিছুদিন ইতিবাচক কুয়ান্টা মেডিটেশনের অনুশীলন করার ফলে আপনি আশানুরূপ ফল পেতে শুরু করবেন । আপনি দেখতে পাবেন যে, আপনার মেমোরী পাওয়ার ও আত্মবিশ্বাস উত্তরোত্তর আপগ্রেড হচ্ছে । আপনি যা পড়ছেন, তা আপনার স্মৃতিতে গেথে যাচ্ছে ।
আপনি যা পড়বেন, তা বুঝে পড়তে হবে । বুঝার পর মূখস্থ করতে হবে । না বুঝে মূখস্থ করা যাবে না । বারবার বুঝার চেষ্টা করতে হবে ।
বেশি বেশি করে অনুশীলন ও চর্চা করা ।
জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ও জায়গাগুলো দাগিয়ে পড়া ।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিশেষ মনোযোগ সহকারে পড়া ।
প্রশ্ন ও উত্তর খোঁজে বের করা ।
অধ্যয়নের সময় একটু শব্দ করে পড়া
কয়েক মিনিট নিরবে সারসংক্ষেপ নিয়ে চিন্তা করা
মূখস্থ করার পর মূখস্থ বিষয় লিখা । লিখার অনুশীলন বেশি বেশি করা ।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আরও সহায়ক গ্রন্থ পড়া ।
উপস্থাপন করার দক্ষতা অর্জন করা ।
সমালোচকের দৃষ্টিতে পড়া ।
অজানা শব্দের অর্থ জানার জন্য ডিক্সনারী তথা অভিধান ব্যবহার করা ।
গভীর মনোযোগ সহকারে পড়া । পড়ার সময় কুচিন্তা বা তরল চিন্তা না করা ।
পড়ার সময় গল্প গুজব বা অনর্থক কথাবার্তা না বলা ।
পড়ার সময় শিক্ষাপোকরণ হাতের কাছে রাখা ।
পড়ার সময় ধৈর্য, সহিঞ্চুতা ও একাগ্রতা নিয়ে পড়াশুনা করা ।
বিরক্তি ও ক্লান্তিবোধ থেকে মুক্ত থাকা ।
অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে আগ্রহ সহকার পড়া ।
অন্তত: সপ্তাহে একবার পুরাতন পড়া রিভিশন দেওয়া ।
নিজের ভাষায় প্রকাশ করার ক্ষমতা অর্জন করতে অনুশীলন করা ।
বই পড়ার প্রতি পিপাসা ও আগ্রহ সৃষ্টি করা ।

পাঠের সুষ্ঠু পরিক্ল্পনাসহ অধ্যয়ন করা ।

Saturday, 8 April 2017

পরীক্ষার্থী ছাত্র-ছার্ত্রীদের জন্য করণীয়

শাজু


ভূমিকা :
সময় খুবই মূল্যবান সম্পদ । কথায় বলে- সময় ও স্রোত 
কারও জন্যে অপেক্ষা করে না ।ফারসী ভাষায় একটি প্রবাদ আছে । وقت از دست رفته و تير از كمان جسته باز نمى أيد - অর্থাৎ- যে তীর ধনুক থেকে নিক্ষিপ্ত হলো এবং যে সময় হাত ছাড়া হয়ে গেল, এ দুটো জিনিস কখনই স্বস্থানে ফিরে আসে না ।যেহেতু পরীক্ষার পূর্ব মূহুর্তে হাতে সময় খুব কম, তাই সময়গুলোকে গনিমাত মনে করে প্রতিটি মূহুর্তকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে । সেই লক্ষ্যে পরীক্ষার্থীদের জন্যে নিম্নোক্ত পরামর্শগুলো অতীব জরুরী মনে করি ।
০১.ভাল একটি প্রশ্নপত্রের সাজেশন তৈরী করে নেওয়া অথবা বাজার থেকে সংগ্রহ করা । নিজে তৈরী করে নিতে পারলে ভাল, এতে আত্মবিশ্বাস দৃঢ় হয় ।
০২. প্রশ্নসাজেশন মোতাবেক নোট সংগ্রহ করন । কয়েকটি মানসম্পন্ন বইয়ের 
সহযোগিতায় নিজে নোট তৈরী করে নিতে পারলে ভাল হয় নতুবা বাজার থেকে ভাল মানের গাইড সংগ্রহ করতে হবে ।

০৩. পড়ার পাশাপাশি মূখস্থ বিষয়গুলো লিখতে হবে । লেখার শেষে লিখিত বিষয়ের বানান ও ভাষাগত শুদ্ধাশুদ্ধি প্রুফ করতে হবে । এতে লিখনী প্রতিভা বিকশিত হবে ।
০৪.নোটগুলো পয়েন্টভিত্তিক করা দরকার । আর পয়েন্টগুলো ছোট্ট একটি পকেটনোট খাতায় উঠিয়ে তা মাঠে-ঘাটে, গাড়িতে, চলতে-ফিরতে এমনকি সর্বত্রই চর্চা করা দরকার ।
০৫.লেখাপড়ার ব্যাপারে নিয়মানুবর্তিতার অনুসরণ অতীব জরুরী মনে করি । শারীরিক ও মানসিক অবসন্নতা দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন ।
০৬. দিন-রাতের সময়গুলোকে ভাগ করে নিয়ে রুটিন মাফিক পড়াশুনা করতে হবে ।
০৭. অন্তত: একজন পরীক্ষার্থী সহপাঠী ঠিক করে তার সাথে প্রয়োজনীয় পাঠ্যবিষয় 
পর্যালোচনা ও Test এর ব্যবস্থা করতে হবে ।

০৮. শুধু সাজেসন নয়, সিলেবাসভূক্ত পাঠ্যবিষয়ের সবগুলোর উপর মৌলিক ধারনা রাখতে হবে ।

Thursday, 6 April 2017

পহেলা বৈশাখ



sazu 







হাযেরীন, এপ্রিল মাসে আমরা আরেকটি উৎসব করি, তা হলো ১৪ই এপ্রিল বা পহেলা বৈশাখে বাংলা নববর্ষ পালন করা। আমাদের দেশে প্রচলিত বঙ্গাব্দ বা বাংলা সন মূলত ইসলামী হিজরী সনেরই একটি রূপ। ভারতে ইসলামী শাসনামলে হিজরী পঞ্জিকা অনুসারেই সকল কাজকর্ম পরিচালিত হতো। মূল হিজরী পঞ্জিকা চান্দ্র মাসের উপর নির্ভরশীল। চান্দ্র বৎসর সৌর বৎসরর চেয়ে ১১/১২ দিন কম হয়। কারণ সৌর বৎসর ৩৬৫ দিন, আর চান্দ্র বৎসর ৩৫৪ দিন। একারণে চান্দ্র বৎসরে ঋতুগুলি ঠিক থাকে না। আর চাষাবাদ ও এজাতীয় অনেক কাজ ঋতুনির্ভর। এজন্য ভারতের মোগল সম্রাট আকবারের সময়ে প্রচলিত হিজরী চান্দ্র পঞ্জিকাকে সৌর পঞ্জিকায় রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
হাযেরীন, সম্রাট আকবার তার দরবারের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও জ্যেতির্বিদ আমির ফতুল্লাহ শিরাজীকে হিজরী চান্দ্র বর্ষপঞ্জীকে সৌর বর্ষপঞ্জীতে রূপান্তরিত করার দায়িত্ব প্রদান করেন। ৯৯২ হিজরী মোতাবেক ১৫৮৪ খৃস্টাব্দে সম্রাট আকবার এ হিজরী সৌর বর্ষপঞ্জীর প্রচলন করেন। তবে তিনি ঊনত্রিশ বছর পূর্বে তার সিংহাসন আরোহনের বছর থেকে এ পঞ্জিকা প্রচলনের নির্দেশ দেন। এজন্য ৯৬৩ হিজরী সাল থেকে বঙ্গাব্দ গণনা শুরু হয়। ইতোপূর্বে বঙ্গে প্রচলিত শকাব্দ বা শক বর্ষপঞ্চির প্রথম মাস ছিল চৈত্র মাস। কিন্তু ৯৬৩ হিজরী সালের মুর্হারাম মাস ছিল বাংলা বৈশাখ মাস, এজন্য বৈশাখ মাসকেই বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস এবং ১লা বৈশাখকে নববর্ষ ধরা হয়।
হাযেরীন, তাহলে বাংলা সন মূলত হিজরী সন। রাসূলুল্লাহ স.-এর হিজরত থেকেই এ পঞ্জিকার শুরু। ১৪১৫ বঙ্গাব্দ অর্থ রাসূলুল্লাহ স.-এর হিজরতের পর ১৪১৫ বৎসর। ৯৬২ চান্দ্র বৎসর ও পরবর্তী ৪৫৩ বৎসর সৌর বৎসর। সৌর বৎসর চান্দ্র বৎসরের চেয়ে ১১/১২ দিন বেশি এবং প্রতি ৩০ বৎসরে চান্দ্র বৎসর এক বৎসর বেড়ে যায়। এজন্য ১৪২৮ হিজরী সাল মোতাবেক বাংলা ১৩১৪-১৫ সাল হয়।
হাযেরীন, মোগল সময় থেকেই পহেলা বৈশাখে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে কিছু অনুষ্ঠান করা হতো। প্রজারা চৈত্রমাসের শেষ পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করতেন এবং পহেলা বৈশাখে জমিদারগণ প্রজাদের মিষ্টিমুখ করাতেন এবং কিছু আনন্দ উৎসব করা হতো। এছাড়া বাংলার সকল ব্যবসায়ী ও দোকানদার পহেলা বৈশাখে ‘হালখাতা’ করতেন। কিন্তু বর্তমানে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে এমন কিছু কর্মকাণ্ড করা হচ্ছে যা কখনোই পূর্ববর্তী সময়ে বাঙালীরা করেন নি এবং যা বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় মূল্যবোধের সাথে প্রচণ্ডভাবে সাংঘর্ষিক। পহেলা বৈশাখের নামে বা নববর্ষ উদযাপনের নামে যুবক-যুবতী, কিশোর-কিশোরীদেরকে অশ্লীলতা ও বেহায়াপনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আজ থেকে কয়েক বছর আগেও এদেশের মানুষেরা যা জানত না এখন নববর্ষের নামে তা আমাদের সংস্কৃতির অংশ বানানো হচ্ছে।


হাযেরীন, বাংলার প্রাচীন মানুষের ছিলেন দ্রাবিড় বা হযরত নূহ (আ)-এর বড় ছেলে সামের বংশধর। খৃস্টপূর্ব ১৫০০ সালের দিকে ইয়াফিসের সন্তানদের একটি গ্র“প আর্য নামে ভারতে আগমন করে। ক্রমান্বয়ে তারা ভারত দখল করে ও আর্য ধর্ম ও কৃষ্টিই পরবর্তীতে “হিন্দু” ধর্ম নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে। ভারতের দ্রাবিড় ও অর্নায ধর্ম ও সভ্যতাকে সর্বদা হাইয্যাক করেছেন আর্যগণ। এর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো “বাঙালী” সংস্কৃতি ও কৃষ্টিকে হাইয্যাক করা। আর্যগণ বাংলাভাষা ও বাঙালীদের ঘৃণা করতেন। বেদে ও পুরাণে বাংলাভাষাকে পক্ষীর ভাষা ও বাঙালীদেরকে দস্যু, দাস ইত্যাদি বলা হয়েছে। মুসলিম সুলতানগণের আগমনের পরে তারা বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। বাঙালী সংস্কৃতি বলতে বাংলার প্রাচীন লোকজ সংস্কৃতি ও মুসলিম সংস্কৃতির সংমিশ্রণ বুঝানো হতো। কিন্তু ক্রমান্বয়ে আর্যগণ “বাঙালীত্ব” বলতে হিন্দুত্ব বলে মনে করেন ও দাবি করেন। ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদিগণ  Hindutva অর্থাৎ ভারতীয়ত্ব বা “হিন্দুত্ব” হিন্দু ধর্মত্ব বলে দাবি করেন এবং ভারতের সকল ধর্মের মানুষদের হিন্দু ধর্মের কৃষ্টি ও সভ্যতা গ্রহণ বাধ্যতামূলক বলে দাবি করেন। তেমনিভাবে বাংলায় আর্য পণ্ডিতগণ বাঙালীত্ব বলতে হিন্দুত্ব ও বাঙালী জাতীয়তাবাদ বলতে হিন্দু জাতীয়তাবাদ এবং বাঙালী সংস্কৃতি বলতে হিন্দু সংস্কৃতি বলে মনে করেন। এজন্যই তারা মুসলমানদের বাঙালী বলে স্বীকার করেন না। শরৎচন্দ্রের শ্রীকান্ত গল্পে আমরা দেখেছি যে বাঙালী বলতে শুধু বাঙালী হিন্দুদের বুঝানো হয়েছে এবং মুসলমানদেরকে তাদের বিপরীতে দেখানো হয়েছে। এ মানসিকতা এখনো একইভাবে বিদ্যমান। পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদেরকে “বাঙালী” পরিচয় দিলে বা জাতিতে “বাঙালী” লিখলে ঘোর আপত্তি করা হয়। এ মানসিকতার ভিত্তিতেই “পহেলা বৈশাখে’” বাঙালী সংস্কৃতির নামে পৌত্তলিক বা অশ্লীল কৃষ্টি ও সংস্কৃতি আমাদের মধ্যে প্রচার করা হচ্ছে।
http://sahazahansky.blogspot.com/search/label/%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9E%E0%A6%BE%E0%A6%A8%20%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A6%95

হাযেরীন, এক সময় বাংলা বর্ষপঞ্জি এদেশের মানুষের জীবনের অংশ ছিল। তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য কৃষি ও কর্ম এ পঞ্জিকা অনুসারেই চলত। এজন্য পহেলা বৈশাখ হালখাতা বা অনুরূপ কিছু আনন্দ বা অনুষ্ঠান ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু বর্তমানে আমাদের জীবনের কোথাও বঙ্গাব্দের কোনো প্রভাব নেই। কাগজে কলমে যাই লেখা হোক, প্রকৃতপক্ষে আমরা নির্ভর করছি খৃস্টীয় পঞ্জিকার উপর। যে বাংলা বর্ষপঞ্জি আমরা বছরের ৩৬৪ দিন ভুলে থাকি, সে বর্ষপঞ্জির প্রথম দিনে আমরা সবাই “বাঙালী” সাজার চেষ্টা করে এ নিয়ে ব্যাপক হইচই করি। আর এ সুযোগে দেশীয় ও বিদেশী বেনিয়াগণ ও আধিপত্যবাদীগণ তাদের ব্যবসা বা আধিপত্য প্রসারের জন্য এ দিনটিকে কেন্দ্র করে বেহায়াপনা, অশ্লীলতা ও অনৈতিকতার প্রচার করে।


হাযেরীন, পাশ্চাত্য সভ্যতার অনেক ভাল দিক আছে। কর্মস্পৃহা, মানবাধিকার, আইনের শাসন ইত্যাদি অনেক গুণ তাদের মধ্যে বিদ্যমান। পাশাপাশি তাদের কিছু দোষ আছে যা তাদের সভ্যতার ভাল দিকগুলি ধ্বংস করে দিচ্ছে। এ দোষগুলির অন্যতম হলো মাদকতা ও অশ্লীলতা। আমরা বাংলাদেশের মানুষের পাশ্চাত্যের কোনো ভালগুণ আমাদের সমাজে প্রসার করতে পারি নি বা চাই নি। তবে তাদের অশ্লীলতা, বেহায়াপনা ও মাদকতার ধ্বংসাত্মক দিকগুলি আমরা খুব আগ্রহের সাথে গ্রহণ করতে ও প্রসার করতে চাচ্ছি। এজন্য খৃস্টীয় ক্যালেন্ডারের শেষ দিনে ও প্রথম দিনে থার্টিফার্স্ট নাইট ও নিউ-ইয়ারস ডে বা নববর্ষ উপলক্ষ্যে আমাদের বেহায়পনার শেষ থাকে না।
পক্ষান্তরে, আমাদের দেশজ সংস্কৃতির অনেক ভাল দিক আছে। সামাজিক শিষ্টাচার, সৌহার্দ্য, জনকল্যাণ, মানবপ্রেম ইত্যাদি সকল মূল্যবোধ আমরা সমাজ থেকে তুলে দিচ্ছি। পক্ষান্তরে দেশীয় সংস্কৃতির নামে অশ্লীলতার প্রসার ঘটানো হচ্ছে।
হাযেরীন, বেপর্দা, বেহায়াপনা, অশ্লীলতা, মাদকতা ও অপরাধ একসূত্রে বাধা। যুবক-যুবতীদেরকে অবাধ মেলামেশা ও বেহায়াপনার সুযোগ দিবেন, অথচ তারা অশ্লীলতা, ব্যভিচার, এইডস, মাদকতা ও অপরাধের মধ্যে যাবে না, এরূপ চিন্তা করার কোনো সুযোগ নেই। অন্যান্য অপরাধের সাথে অশ্লীতার পার্থক্য হলো কোনো একটি উপলক্ষ্যে একবার এর মধ্যে নিপতিত হলে সাধারণভাবে কিশোর-কিশোরী ও যুবক-যুবতীরা আর এ থেকে বেরোতে পারে না। বরং ক্রমান্বয়ে আরো বেশি পাপ ও অপরাধের মধ্যে নিপতিত হতে থাকে। কাজেই নিজে এবং নিজের সন্তান ও পরিজনকে সকল অশ্লীলতা থেকে রক্ষা করুন। আল্লাহ বলেছেন: “তোমরা নিজেরা জাহান্নাম থেকে আত্মরক্ষা কর এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর।” রাসূলুল্লাহ স. বলেছেন, “তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার দায়িত্বাধীনদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।
হাযেরীন, পহেলা বৈশাখ বা অন্য কোনো উপলক্ষ্যে ছেলেমেয়েদেরকে বেপর্দা ও বেহায়পনার সুযোগ দিবেন না। তাদেরকে বুঝান ও নিয়ন্ত্রণ করুন। আপনি মসজিদে নামায আদায় করছেন আর আপনার ছেলেমেয়ে পহেলা বৈশাখের নামে বেহায়াভাবে মিছিল বা উৎসব করে বেড়াচ্ছে। আপনার ছেলেমেয়ের পাপের জন্য আপনার আমলনামায় গোনাহ জমা হচ্ছে। শুধু তাই নয়। অন্য পাপ আর অশ্লীলতার পার্থক্য হলো, যে ব্যক্তি তার স্ত্রী-সন্তানদের বেহায়াপনা ও অশ্লীলতার সুযোগ দেয় তাকে “দাইউস” বলা হয় এবং রাসূলুল্লাহ স.  বারংবার বলেছেন যে, দাইউস ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।
হাযেরীন, নিজেকে এবং নিজের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করার পাশাপাশি মুমিনের দায়িত্ব হলো সমাজের মানুষদেরকে সাধ্যমত ন্যায়ের পথে ও অন্যায়ের বর্জনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। কাজেই পহেলা বৈশাখ ও অন্য যে কোনো উপলক্ষ্যে ছেলেমেয়েদের অবাধ মেলামেশা ও বেহায়াপনার ক্ষতি, অন্যায় ও পাপের বিষয়ে সবাইকে সাধ্যমত সচেতন করুন। যদি আপনি তা করেন তবে কেউ আপনার কথা শুনুক অথবা না শুনুক আপনি আল্লাহর কাছে অফুরন্ত সাওয়াব লাভ করবেন। আর যদি আপনি তা না করেন তবে এ পাপের গযব আপনাকেও স্পর্শ করবে। কুরআন ও হাদীসে বিষয়টি বারংবার বলা হয়েছে।
হাযেরীন, ব্যবসায়িক, প্রশাসনিক, রাজনৈতিক বা সামাজিক কোনো স্বার্থে অনেক মুসলিম পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে ছেলেমেয়েদের অবাধ মেলামেশা ও বেহায়াপনার পথ খুলে দেওয়ার জন্য মিছিল, মেলা ইত্যাদির পক্ষে অবস্থান নেন। আপনার দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য এরচেয়ে ভয়ঙ্কর আর কিছুই হতে পারে না। অশ্লীলতা প্রসারের ভয়ঙ্কর পাপ ছাড়াও ভয়ঙ্কর শাস্তির কথা শুনুন:

إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَنْ تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آَمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالآَخِرَةِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لا تَعْلَمُونَ
“যারা চায় যে, মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রচার ঘটুক তাদের জন্য পৃথিবীতে এবং আখিরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর আল্লাহ জানেন, তোমরা জান না।”
হাযেরীন, সাবধান হোন! সতর্ক হোন! আপনি কি আল্লাহর সাথে পাল্লা দিবেন? আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে আপনি কি জয়ী হবেন? কখন কিভাবে আপনার ও আপনার পরিবারের জীবনে “যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি” নেমে আসবে তা আপনি বুঝতেও পারবেন না। আপনার রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসায়িক বা অন্য কোনো স্বার্থ উদ্ধারের জন্য অন্য পথ দেখুন। অন্য বিকল্প চিন্তা করুন। তবে কখনোই অশ্লীলতা প্রসার ঘটে এরূপ কোনো বিষয়কে আপনার স্বার্থ উদ্ধারের বাহন বানাবেন না।
মহান আল্লাহ আমাদেরকে হেফাযত করুন। আমীন!!































Tuesday, 4 April 2017

একটি ভাষা আয়ত্ব করণের উপায়

sazu

একটি ভাষা সেটি মাতৃভাষা হউক আর বিদেশী ভা্ষা, তা অনুধাবন ও 
আয়ত্ব করনের চারিটি উপায় রয়েছে যথা- পড়া, লিখা, বলা ও শোনা ।এই চারিটি
বিষয়ই দক্ষ হতে না পারলে ভাষাটি আয়ত্ব করা সহজ হবে না ।
০১. Listening ( শোনা ) :
সেই ভাষায় বক্তৃতা, রেডিও অথবা টিভির সংবাদ শ্রবণ ও অন্যান্য মননশীল,সৃজনশীল গঠনমূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শোনা প্রয়োজন । তবে এর পাশাপাশি ব্যাকরণগত মৌলিক জ্ঞান থাকা আবশ্যক ।
০২. Speaking ( বলা ) : 
কয়েকজন মিলে সেই ভাষায় কথা বলার জন্য একটি Team বা গ্রুপ করা যায় । এই গ্রুপকে Conversation team বলে । এরা নিজেদের ভেতর সেই ভাষায় কথা বলবে । 
০৪.Listening ( শোনা ) : সেই ভাষায় বক্তৃতা, রেডিও অথবা টিভির সংবাদ শ্রবণ ও অন্যান্য মননশীল,সৃজনশীল গঠনমূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শোনা প্রয়োজন । তবে এর পাশাপাশি ব্যাকরণগত মৌলিক জ্ঞান থাকা আবশ্যক ।
০৪.Listening ( শোনা ) : সেই ভাষায় বক্তৃতা, রেডিও অথবা টিভির সংবাদ শ্রবণ ও অন্যান্য মননশীল,সৃজনশীল গঠনমূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শোনা প্রয়োজন । তবে এর পাশাপাশি ব্যাকরণগত মৌলিক জ্ঞান থাকা আবশ্যক ।
০৪.Listening ( শোনা ) : সেই ভাষায় বক্তৃতা, রেডিও অথবা টিভির সংবাদ শ্রবণ ও অন্যান্য মননশীল,সৃজনশীল গঠনমূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শোনা প্রয়োজন । তবে এর পাশাপাশি ব্যাকরণগত মৌলিক জ্ঞান থাকা আবশ্যক ।
০৩. Reading (পড়া ) : 
পড়ার জন্য সংবাদপত্র পাঠ, ছোট গল্পের বই, উপন্যাস ও সাহিত্যগ্রন্থ অধ্যয়ন করতে হবে ।
০৪. Writing ( লিখা ) :

লিখার ক্ষেত্রে অনুবাদ, প্রবন্ধ, রচনা, কবিতা রচনা, বন্ধু-বান্ধব বা অন্য কারও কাছে সেই ভাষায় চিঠি বা দরখাস্ত লিখার চর্চা করতে হবে ।

Sunday, 2 April 2017

পহেলা এপ্রিল


এপ্রিল ফুল

নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লী আলা রাসূলিহীল কারীম। আম্মা বাদ,

এপ্রিল মাসে আমাদের দেশে দুটি দিবস পালন করা হয়ে থাকে। পহেলা এপ্রিল এবং পহেলা বৈশাখ বা ১৪ই এপ্রিল। পহেলা এপ্রিল বাংলায় “এপ্রিল ফুল” নামে পরিচিত। এখানে ফুল অর্থ ইংরেজী ফুল অর্থাৎ বোকা, হাবা বা নির্বোধ। ইংরেজিতে বলা হয়:April Fools’ Day or All Fools' Day.   এদিনে “প্র্যাকটিক্যাল জোক” বা বাস্তব বা ব্যবহারিক তামাশার নামে একে অপরকে মিথ্যা বলে ঠকানো হয়ে থাকে। এ উপলক্ষ্যে পাশ্চাত্যের দেশগুলিতে নানা রকম উৎসবের ব্যবস্থা করা হয়।
এপ্রিল ফুলের রহস্য বুঝতে আমাদের মানব ইতিহাসের কয়েকটি তথ্য জানতে হবে।
 আদম (আ)-এর মাধ্যমে পৃথিবীর বুকে মানব জাতির পথ চলা শুরু। তাঁর সন্তানেরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ক্রমান্বয়ে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। পরবর্তী প্রথম রাসূল ছিলেন নূহ (আ)। নূহ (আ)-এর প্লাবনের পর তাঁর সন্তানেরা ক্রমান্বয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। তাঁর তিন ছেলের নাম “হাম”, “সাম” ও “ইয়াফিস”। হামের বংশধরগণ ক্রমান্বয়ে আফ্রিকায় চলে যান। সামের বংশধরগণ মূলত মধ্যপ্রাচ্যে বসবাস করেন এবং কেউ কেউ পার্শবতী দেশগুলিতে ছড়িয়ে পড়েন। ভারতের দ্রাবিড়গণও তাদেরই বংশধর বলে বুঝা যায়। ইয়াফেসের বংশধরগণ অনেকে ইরানে বসবাস করেন। আরেক দল ‘আর্য” নামে ভারতে আসেন এবং আরেক দল ইউরোপে চলে যান। এজন্য ইউরোপ, ভারতের আর্য ও প্রাচীন ইরানের ভাষা, কৃষ্টি ও ধর্মের মধ্যে অনেক অনেক মিল পাওয়া যায়। তার একটি দিক হলো পহেলা এপ্রিল।
 বসন্তের শেষে ভারতে হিন্দুরা হোলি উৎসর পালন করেন। হিন্দুদের বিশ্বাস অনুসারে ভগবান বিষ্ণুর অবতার বা মানবরূপ শ্রীকৃষ্ণের সাথে গোপিনীদের লীলাখেলার স্মৃতিপালন ও উদযাপনে তারা এ উৎসব করেন। এ হোলি উৎসবেরই প্রাচীন ইউরোপীয় রূপ ছিল প্রাচীন রোমান ধর্মের হিলারিয়া (ঐরষধৎরধ) উৎসব। এ উপলক্ষ্যে নানারকম অশ্লীল, অশালীন আনন্দ উৎসব প্রচলিত ছিল ইউরোপে।
 ইউরোপে খৃস্টধর্ম আগমনের পরে “ভিন্নমতের” কারণে লক্ষলক্ষ খৃস্টান, ইহূদী ও মুসলিমকে হত্যা ও আগুনে পোড়ানো হলেও, খৃস্টান পোপ-পাদরিগণ ধর্মকে সহজ করার নামে সকল প্রকার পাপাচার প্রশ্রয় দিয়েছেন। এ কারণে খৃস্টান ইউরোপে এপ্রিল ফুল দিবস নামে হিলারিয়া বা হোলি উৎসবের বিভিন্ন প্রকারের পাপাচার, মিথ্যাচার ও অশ্লীলতা প্রশ্রয় দেওয়া হয়। এমন একটি মহাপাপ, মিথ্যাচার ও বর্বরতা ছিল স্পেনের মুসলিমদের সাথে খৃস্টানগণের “এপ্রিল ফুল”।
 স্পেনের অত্যাচারিত মানুষদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুসলিম বাহিনী ৯২ হিজরী মুতাবেক ৭১১ খৃস্টাব্দে স্পেনে প্রবেশ করে। মুসলিমগণই ইউরোপের মানুষদেরকে জ্ঞানবিজ্ঞান শিক্ষা দেন। মুসলিম স্পেনের গ্রানাডা, কর্ডোভা ও অন্যান্য শহরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা পড়তে আসত। প্রায় আট শত বৎসর মুসলিমগণ স্পেন শাসন করেন। শেষ দিকে তাদের মধ্যে আভ্যন্তরীন কোন্দল ছড়িয়ে পড়ে। ফলে খৃস্টানগণ ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন অঞ্চল মুসলিমদের থেকে ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয়। ৮৯৮ হিজরী মুতাবেক ১৪৯৩ খৃস্টাব্দে রাজা ফার্দিনান্দ ও রানী ইযাবেলার যৌথ খৃস্টান বাহিনী মুসলিমদের শেষ রাজধানী গ্রানাডা দখল করতে সক্ষম হয়। তারা এ সময়ে “এপ্রিল ফুল” নামে মুসলিমদের প্রতারণা করে তাদের মধ্যে গণহত্যা চালাতে সক্ষম হয়।
, বিশ্বের যে কোনো ঐতিহাসিকের বই পড়ে দেখুন, ৮০০ বৎসরের শাসনামলে মুসলিমগণ কখনোই খৃস্টানদেরকে ধর্মান্তরিত করতে চেষ্টা করেন নি বা দেশ থেকে বের করে দেন নি। ইহূদী-খৃস্টানগণ মুসলিম শাসনামলে সর্বোচ্চ নাগরিক অধীকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করেছেন। কিন্তু মুসলিমদের পরাজিত করার পরে পাদরীগণের নেতৃত্বে খৃস্টানগণ মুসলিমদের উপর যে ভয়াবহ গণহত্যা চালিয়েছেন তার কোনো নযির বিশ্বের ইতিহাসে পাবেন না। লক্ষ লক্ষ মুসলিমকে মসজিদে আটকে আগুনে পুড়িয়ে, পাহাড় থেকে ফেলে, সমূদ্রের মধ্যে জাহাজ ডুবিয়ে ও গণজবাই অনুষ্ঠানে জবাই করে হত্যা করা হয়। অনেককে জোর করে ধর্মান্তরিত করা হয়। এরপরও প্রায় একশত বৎসর পরে ১৬০৯ খৃস্টাব্দের ৪ আগস্ট প্রায় ৫০ লক্ষ মুসলিমকে স্পেন থেকে বিতাড়িত করা হয়। কার্ডিনাল বা খৃস্টান ধর্মগুরুর আদেশে জ্ঞানবিজ্ঞানের মূল সূত্র লক্ষ লক্ষ আরবী পুস্তক পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
 শুধু মুসলিমগণ নয়, ইহূদীদের উপরও খৃস্টানগণ একইরূপ অত্যাচার করে। অনেককে জোরকরে খৃস্টান বানায়। অধিকাংশকে স্পেন থেকে বিতাড়িত করে। বিতাড়িত ইহূদীরা ইউরোপের কোনো দেশে ঠাই না পেয়ে মুসলিম তুরস্কে এসে শান্তিতে বসবাস করতে থাকে। জুইশ এনসাইক্লোপিডিয়া ও অন্যান্য সকল এনসাইক্লোপিডিয়া ও ইতিহাস গ্রন্থে আপনারা এ সকল তথ্য দেখতে পাবেন।
এ হলো খৃস্টানদের এপ্রিল ফুলের ইতিহাস। যদি ইসলামে প্র্যাকটিক্যাল জোক নামে বা আনন্দ উল্লাসের নামে মিথ্যা বলার অনুমতি থাকত তাহলেও এ দিনে কোনো মুসলিম আনন্দ করতে পারতেন না। কারণ প্রথমত তা প্যগান বা মুর্তিপূজকদের ধর্মীয় উৎসবের অংশ ও অনুকরণ। দ্বিতীয়ত এ দিবসটি মুসলিমদের জন্য শোকের ও প্রতিবাদের দিন, আনন্দের নয়। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হলো, হাসি-মস্করার নামে মিথ্যা বলা ইসলামে কঠিনভাবে নিষিদ্ধ ও হারাম।
মিথ্যা ইসলামে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হারাম গোনাহগুলির অন্যতম। মিথ্যা বলা মুনাফিকের অন্যতম চিহ্ন। মিথ্যা সর্বাবস্থায় হারাম। সবচেয়ে জঘন্যতম মিথ্যা হলো আল্লাহ বা তাঁর রাসূল (স.)-এর নামে, হাদীসের নামে বা ধর্মের নামে মিথ্যা বলা। এরপর জঘন্য মিথ্যা হলো মিথ্যার মাধ্যমে কোনো মানুষের অধিকার নষ্ট করা, সম্পদ দখল করা বা মিথ্যা কথা বলে কিছু বিক্রয় করা। বিভিন্ন হাদীসে এরূপ কর্মের জন্য কঠিন অভিশাপ ও কঠিন শাস্তির কথা বলা হয়েছে।
হাযেরীন, ইসলামে হাসি-মস্করা, আনন্দ ও বিনোদনকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। কিন্ত সে জন্য মিথ্যা বলা বৈধ করা হয় নি। রাসূলুল্লাহ স. নিজে হাঁসি-মস্করা করতেন, কিন্তু মিথ্যা পরিহার করতেন। এক বৃদ্ধাকে বলেন, কোনো বুড়ো মানুষ তো জান্নাতে যাবে না। এতে বেচারী কান্নাকাটি শুরু করে। তখন তিনি বলেন, বুড়োবুড়িকে আল্লাহ জোয়ান বানিয়ে জান্নাতে দিবেন। একব্যক্তি তাঁর কাছে এসে সফরের জন্য একটি উট চান। তিনি বলেন, তোমাকে আমি একটি উটনীর বাচ্চা দিব। লোকটি হতাশ হয়ে বলে, বাচ্চাতে আমার কি হবে? তিনি বলেন, সকল উটই তো উটনীর বাচ্চা। এরূপ অনেক ঘটনা হাদীসে রয়েছে। সাহাবীগণও হাসি-মস্করা করতেন, তবে মিথ্যা বর্জন করতেন। রাসূলুল্লাহ স. বলেন:
وَيْلٌ لِلَّذِي يُحَدِّثُ بِالْحَدِيثِ لِيُضْحِكَ بِهِ الْقَوْمَ فَيَكْذِبُ وَيْلٌ لَهُ وَيْلٌ لَهُ
“যে ব্যক্তি মানুষ হাসানোর জন্য মিথ্যা বলে তার জন্য ধ্বংস! তার জন্য ধ্বংস! তার জন্য ধ্বংস!”
أَنَا زَعِيمٌ بِبَيْتٍ فِي وَسَطِ الْجَنَّةِ لِمَنْ تَرَكَ الْكَذِبَ وَإِنْ كَانَ مَازِحًا
“যে ব্যক্তি সর্বদা মিথ্যা বর্জন করে, মস্করা বা কৌতুক করতেও মিথ্যা বলে না, তার জন্য জান্নাতের মধ্যদেশে একটি বাড়ির জন্য আমি দয়িত্বগ্রহণ করলাম।”
মস্করা বা কৌতুকচ্ছলে কাউকে ভয় পাইয়ে দেওয়াও জায়েয নয়। এক সফরে সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ স.-এর সাথে ছিলেন। একজন সাহাবী ঘুময়ে পড়েছিলেন। তখন অন্য একজন যেয়ে তার তীরটি নিয়ে আসেন। এতে ঘুমন্ত ব্যক্তি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে উঠে পড়েন। তার ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থা দেখে সাহাবীগণ হেসে উঠেন। রাসূলুল্লাহ স. বলেন, তোমরা হাসছ কেন? তারা ঘটনাটি বললে তিনি বলেন:
لا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يُرَوِّعَ مُسْلِمًا
“কোনো মুসলিমের জন্য বৈধ নয় যে, সে অন্য মুসলিমকে ভয় পাইয়ে দিবে।”
 আমরা অনেক সময় কৌতুকভরে বা ভুলানোর জন্য শিশুদের সাথে মিথ্যা বলি। অথচ এরূপ মিথ্যাও মিথ্যা এবং গোনহের কাজ। শুধু তাই নয়, এরূপ মিথ্যার মাধ্যমে আমরা শিশুদেরকে মিথ্যায় অভ্যস্ত করে তুলি এবং মিথ্যার প্রতি তাদের ঘৃণা ও আপত্তি নষ্ট করে দিই। কিশোর সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনু আমির বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ স. আমাদের বাড়িতে বসে ছিলেন, এমতাবস্থায় আমার মা আমাকে ডেকে বলেন, এস তোমাকে একটি জিনিস দিব। রাসূলুল্লাহ স. বলেন, তুমি তাকে কি দিতে চাও? তিনি বলেন: আমি তাকে একটি খেজুর দিতে চাই। রাসূলুল্লাহ  স. বলেন:
أَمَا إِنَّكِ لَوْ لَمْ تُعْطِهِ شَيْئًا كُتِبَتْ عَلَيْكِ كِذْبَةٌ
“তুমি যদি তাকে কিছু না দিতে তবে তোমার নামে একটি মিথ্যার গোনাহ লেখা হতো।”
নিজের সাথে নিজে মিথ্যা বলাও বৈধ নয়। আর এজন্যই কেউ যদি নিজের মনে শুধু নিজের জন্যই কোনো বিষয়ের কসম করে যে, আমি অমুক কাজটি করব বা করব না, কিন্তু পরে তার ব্যক্তিগত কসম না রাখতে পারে তবে তাকে কসমের কাফ্ফারা দিতেই হবে। কাজেই নিজের মনে নিজের জন্য কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা পূরণ করুন, নিজের মনকে মিথ্যায় অভ্যস্থ করবেন না।
 শুধু নিশ্চিত মিথ্যাই নয়, মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা আছে এরূপ কথা বলতে বা যা কিছু শোনা যায় সবই বলাবলি করতে নিষেধ করেছেন রাসূলুল্লাহ স.। তিনি বলেন:
كَفَى بِالْمَرْءِ كَذِبًا أَنْ يُحَدِّثَ بِكُلِّ مَا سَمِعَ
“একজন মানুষের মিথ্যাবাদি হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনবে তাই বলবে।”
এ অপরাধটি আমরা সকলেই করি। ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র, বিশ্ব ইত্যাদি সম্পর্কে মুখরোচক গল্প, গণমাধ্যমের খবর ইত্যাদি যা কিছু শুনি তাই বলি। অথচ বিষয়টি সঠিক কিনা সে সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে কথা বলা ঠিক নয়। যদি কোনো মানুষের ব্যক্তিগত মর্যাদাহানী বা গীবত জাতীয় কিছু না হয়, তবে সে ক্ষেত্রে বড়জোর বলা যেতে পারে যে, অমুক একথা বলেছে বলে শুনেছি, সত্য মিথ্যা বলতে পারি না।
 সর্বদা সত্য বলুন। সত্যপ্রীতি আপনাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ স. বলেন:
عَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ فَإِنَّ الصِّدْقَ يَهْدِي إِلَى الْبِرِّ وَإِنَّ الْبِرَّ يَهْدِي إِلَى الْجَنَّةِ وَمَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَصْدُقُ وَيَتَحَرَّى الصِّدْقَ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ صِدِّيقًا وَإِيَّاكُمْ وَالْكَذِبَ فَإِنَّ الْكَذِبَ يَهْدِي إِلَى الْفُجُورِ وَإِنَّ الْفُجُورَ يَهْدِي إِلَى النَّارِ وَمَا يَزَالُ الْعَبْدُ يَكْذِبُ وَيَتَحَرَّى الْكَذِبَ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ كَذَّابًا
“তোমরা সর্বদা সত্য আঁকড়ে ধরবে; কারণ সত্য পুণ্যের দিকে ধাবিত করে আর পুণ্য জান্নাতে নিয়ে যায়। একজন মানুষ যখন সর্বদা সত্য বলতে থাকে এবং সত্য বলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে তখন সে এক পর্যায়ে আল্লাহর কাছে “সিদ্দীক” বা মহাসত্যবাদী বলে লিখিত হয়ে যায়। আর তোমরা মিথ্যা সর্বোতভাবে বর্জন করবে। কারণ মিথ্যা পাপের পথে পরিচালিত করে এবং পাপ জাহান্নামে নিয়ে যায়। একজন মানুষ যখন মিথ্যা বলে এবং মিথ্যা বলার সুযোগ খুঁজে বেড়ায় তখন সে এক পর্যায়ে আল্লাহর নিকট মহামিথ্যাবাদী বলে লিখিত হয়ে যায়।


ভিডিওটি দেখবেন

শাইখ আহমাদুল্লাহ

অশ্লিলতার ফসল !! আমাদের দেশে মেয়েরা মানসিক আঘাত (trauma) নিয়ে বড় হচ্ছে !

Saturday, 1 April 2017

দ্বীনী ইলম শিক্ষার গুরুত্ব ও ফজিলাত :



ভূমিকা :
আল্লাহ তায়ালা মানব জাতিকে জীবনের চলার পথে সঠিক পথ নির্দেশনা দেওয়ার লক্ষ্যে যুগে যুগে অসংখ্য নাবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন । তাঁর প্রেরীত নাবী-রাসূলদের নিকট হেদায়েতের যে বাণী পাঠিয়েছেন , তাকে বলা হয় ওহী ।যুগে যুগে প্রেরীত নাবী-রাসূলদের মধ্য থেকে সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাবী হলেন বিশ্বনাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা:) । তাঁর উপর অবতারিত কিতাব কুরআনূল কারীম গোটা মানবজাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান । আর রাসূলে কারীম (সা:) এর যবান নি:সৃত বাণীকে বলা হয় সুন্নাহ বা হাদীস । ওহী বলতে কুরআন ও সুন্নাহ দুটোকেই বুঝানো হয়ে থাকে । কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণের মধ্যেই নিহিত রয়েছে মানব জাতির জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ, মুক্তি ও সফলতা । তাই কুরআন-সূন্নাহর জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর উপর ফরজ করে দেওয়া হয়েছে । কারণ একমাত্র ওহীভিত্তিক জ্ঞানার্জনের মাধ্যমেই ইসলামী শরীয়ার হালাল-হারাম, করনীয় ও বর্জনীয় বিষয় জানা সম্ভব হতে পারে । কোন পথে চললে আমাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ ও সফলতা , আর কোন পথে রয়েছে ব্যর্থতা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত রয়েছে শাস্তি ও লাঞ্চনা, তা সুস্পষ্টরূপে বর্ণিত হয়েছে । অতএব দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তি ও মুক্তি পেতে হলে কুরআন-সুন্নাহর অনুসরণের বিকল্প কোন পথ নেই । আর কুরআন-সুন্নাহর অনুসরণ কুরতে হলে উহার জ্ঞান অর্জন করতে হবে । তাই কুরআন-সুন্নাহর আলোকে দ্বীনী ইলম শিক্ষার গুরুত্ব ও ফজিলাত সম্পর্কে আলোচিত হচ্ছে ।
কুরআনুল কারীমের আলোকে দ্বীনী ইলম শিক্ষার গুরুত্ব :
০১. ওহীর প্রথম বাণী :
قا ل الله سبحا نه وتعا لى 
* اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ-( سورة زمر –أية 01)
অনুবাদ : পড়ো তোমার প্রভূর নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন ।
ব্যাখ্যা :
দ্বীনী ইলম শিক্ষার গুরুত্ব সব চেয়ে বেশি হওয়ার কারণে ওহীর প্রথম বাণীতে ইরশাদ হয়েছে اقرأ অর্থাৎ পড়ো । তার মানে দ্বীনী ইলম শিক্ষা করা ফরজ করে দেওয়া হয়েছে ।
০২. আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ ফরমান :
জ্ঞানী ও মূর্খ কখনো সমান হতে পারে না । 
قا ل الله تبارك وتعا لى :
قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لا يعلمون ( الزمر 9- )
অনুবাদ : হে নবী আপনি বলে দিন , যে ব্যক্তি ( কুরআন-সুন্নাহ তথা শরীয়াতের বিধান ) জানে আর যে জানে না , তারা কি উভয়ে সমান গতে পারে ? তার মানে কখনই সমান হতে পারে না ।
০৩. যাদেরকে দ্বীন ইলমের জ্ঞান দান করা হয়েছে , তাদেরকে বিশেষ মর্যাদা দান করা হয়েছে ঐসব লোকদের উপর , যারা তা জানে না ।
قال الله سبحا نه وتعا لى :
*يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آَمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٌ (المجادلة-11) 
অনুবাদ : তোমাদের মধ্য থেকে যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের মধ্য থেকে যাদেরকে দ্বীন ইসলামের জ্ঞান দান করা হয়েছে , তাদেরকে বিশেস সন্মান বা মর্যাদা দান করা হয়েছে ।
ব্যাখ্যা :
আলোচ্য আয়াতে কারীমা দ্বারা একথা প্রতীয়মান হলো যে, ঈমান্দার ব্যক্তিদের মধ্য থেকে যাদেরকে ওহীর জ্ঞানে জ্ঞানী করা হয়েছে , আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে বিশেষ সন্মানে ভূষিত করেছেন ।অর্থাৎ- তাদের মস্তকে মর্যাদার বিশেষ মুকুট পরিয়ে দিয়েছেন ।
০৪. অন্য আয়াতে কারীমায় ইরশাদ হয়েছে ।
قال الله تبارك وتعا لى :
* شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ( العمران-18)-
অনুবাদ : ইরশাদ হচ্ছে যে, আল্লাহ তায়লা স্বয়ং এ কথার উপর স্বাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তিনি ছাড়া কোন উপাস্য নেই । আল্লাহর স্বাক্ষ্যের পাশাপাশি একথার স্বাক্ষ্য দিচ্ছেন
ফেরেশ্তামন্ডলী ও ওলামায়ে কেরাম । আল্লাহ তায়ালাই একমাত্র ইনসাফের উপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছেন ।
ব্যাখ্যা :
আলোচ্য আয়াতে কারীমায় আল্লাহ তায়ালা তার সত্তার একত্ববাদের স্বাক্ষ্য দিয়েছেন । প্রথমে তিনি নিজে , দ্বিতিয় পর্যায়ে ফেরেশ্তামন্ডলী ও তৃতীয় পর্যায়ে ওলামায়ে কিরামের কথা উল্লেখ করা হয়েছে । এর দ্বারা একথা প্রতীয়মান হয় যে,
মর্যাদার দিক থেকে (নাবী-রাসূল ব্যতিত ) ফেরেশ্তাকুলের পরেই ওলামায়ে কেরামের অবস্থান ।
০৫. আল্লাহ তায়ালা আরও ইরশাদ ফরমান : যারা ওহীর জ্ঞানে জ্ঞানী তথা আলিম , তারাই আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করেন ।
قا ل الله تعالى : 
* إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَماء – ( الفا طر -28 )
অনুবাদ : একমাত্র ( ওহীর জ্ঞানে জ্ঞানী ) আলিমগণই আমাকে ভয় করে থাকে ।
০৬.আল্লাহ তায়ালা আরও ইরশাদ ফরমান :
قال الله تعا لى : 
فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ( النحل-43)
অনুবাদ : তোমরা যারা জানো না , যারা জানে তাদের কাছ থেকে জিজ্ঞেস করে জেনে নাও ।
০৭. একমাত্র আলিমগণই ভাল-মন্দ ও হক বাতিলের মাঝে পার্থক্য নির্ণয় করতে পারে । এ পর্য়ায়ে কুরআনূল কারীমে ইরশাদ হয়েছে :
وَمَا يَعْقِلُهَا إِلَّا الْعَالِمُونَ-(العنكبوت- 43) 
অনুবাদ : একমাত্র আলেমগণই ( ভাল-মন্দ ও হক-বাতিলের মাঝে পার্থক্য নির্ণয় করতে পারে ।
হাদীসের আলোকে ইলম শিক্ষার ফজিলাত :
প্রথম হাদীস:
عن أنس بن مالك ( رض) قال : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : " طلب العلم فريضة على كل مسلم " ( رواه ابن ماجه-ررقم الحديث-224- مطبع مصر )
وفى رواية : على كل مسلمة 
অনুবাদ : আনাস ( রা:) হতে বর্ণিত : তিনি বলেন : রাসূলে কারীম ( সা: ) বলেছেন : প্রতিটি মুসলিম পুরুষের উপর দ্বীনী ইলম শিক্ষা গ্রহণ করা ফরজ । 
অন্য রেওয়ায়েতে এসেছে প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর উপর দ্বীনী ইলম শিক্ষা গ্রহণ করা ফরজ । ( তথ্য সূত্র- ইবনে মাযাহ = হাদীস নং- ২২৪ )
عن معا وية (رض) قا ل : قا ل رسول الله صلى الله تعالى عليه وسلم : "من يرد الله خيرا يفقه فى 
الدين _ " 
( رواه البخا رى، رقم الحديث: 7312-ومسلم، 1037- كل مطبع مصر- )
অনুবাদ : মুয়াবিয়া (রা: ) হতে বর্ণিত : তিনি বলেন ।( রাসূল সা:) ইরশাদ ফরমায়েছেন : আল্লাহ তায়ালা যার জন্য বিশেষ কল্যাণ কামনা করেন,তাকে দ্বীনী জ্ঞান অর্জন ও বুঝার তাওফিক দান করেন । 
(
তথ্যসূত্র : সহীহ বুখারী= হাদীস নং-৭৩১২- ও সহীহ মুসলিম=হাদীস নং ১০৩৭ )
তৃতীয় হাদীস :
عن ايى هريرة ( رض) قا ل : قا ل رسو ل الله صلى الله عليه وسلم : " اذا ما ت الا نسا ن انقطع عنه عمله الا من ثلا ثة الا من صدقة جارية او علم ينتفع به او ولد صالح يدعو له " _ 
( رواه مسلم ، رقم الحديث : 1631، مطبع مصر )
অনুবাদ : আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত : তিনি বলেন : রাসূল (সা: ) বলেছেন : যখন মানুষ মৃত্যু বরণ করে , তখন তার সব আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায় । কিন্তু
তিনটি আমল (উহার ছুওয়াব বন্ধ হয় না । ) । 
০১. ছাদক্বায়ে জারিয়া অর্থাৎ- প্রবাহমান ছাদক্বাহ । 
০২. ইলম : যার দ্বারা জনগণ উপকৃত হয় । 
০৩. নেক সন্তান : যে তার জন্য দোওয়া করে । 
(
তথ্য সূত্র : সহীহ মুসলিম=১৬৩১ )
চতুর্থ হাদীস :
عن قيس بن كثير قال : قدم رجل من المدينة على أبي الدرداء وهو بدمشق فقال ما أقدمك يا أخي ؟ فقال حديث بلغني أنك تحدثه عن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال أماجئت لحاجة ؟ قال لا قال أما قدمت لتجارة ؟ قال لا قال ما جئت إلا في طلب هذا الحديث ؟ قال فإني سمعت رسول الله صلى الله عليه و سلم يقول من سلك طريقا يبتغي فيه علما سلك الله له طريقا إلى الجنة وإن الملائكة لتضع أجنحتها رضاء لطالب العلم وإن العالم ليستغفر له من في السموات ومن في الأرض حتى الحيتان في الماء وفضل العالم على العابد كفضل القمر على سائر الكواب إن العلماء ورثة الأنبياء إن الأنبياء لم يورثوا دينارا ولا درهما إنما ورثوا العلم فمن أخذ به أخذ بحظ وافر 
( رواه احمد، رقم الحديث: 21207- والترمذى- 2682- وابن ماجه- 223- كل مطبع مصر )
অনুবাদ: তাবেয়ী কাছির ইবনু ক্বায়েছ (রহ: ) বলেন : আমি দামেশকের মসজিদে বিশিষ্ট সাহাবী আবুদ্দারদাহ (রা:) এর সহিত বসাবস্থায় ছিলাম , এমন সময় তার নিকট জনৈক ব্যক্তি এসে বল্লেন : হে আবুদ্দারদাহ ! আমি সুদূর মদিনাতুর রাসূল থেকে আপনার নিকট শুধু একটি হাদীস শুনার জন্য এসেছি । আপনি নাকি উহা রাসূল (সা:) হতে বর্ণনা করে থাকেন । তখন আবুদ্দারদাহ (রা:) বল্লেন : হ্যা , আমি রাসূল ( সা: ) বলতে শুনেছি : তিনি বলেন ; যে ব্যক্তি ইলম আন্বেষণ করার লক্ষ্যে কোন পথ অবলন্বন করে , আল্লাহ তায়ালা এর বিনিময়ে তাকে জন্নাতের পথ সমূহের মধ্য থেকে একটি পথে পৌছিয়ে দেন এবং ফেরেস্তাগণ ইলম অন্বেষণকারীদের সন্তুষ্টির জন্য তাদের নিজেদের পাখা বিছিয়ে দেন । এতদ্ব্যতীত যারা আলেম , তাদের জন্য আকাশ ও পৃথিবীতে যারা আছেন , তারা সকলেই আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা ও দোওয়া করতে থাকেন । এমনকি পানির মধ্যে 
অবস্থিত মাছসমূহ তাদের জন্য দোওয়া করে থাকেন । আলেমের ফজিলাত সাধারণ
আবেদের (ইবাদতকারী ) উপর এমন , যেমন পূর্ণিমার চাঁদের মর্যাদা অন্যান্য তারকারাজির উপর । আর আলিমগণ হচ্ছেন নাবীদের ওয়ারিশ । নাবীগণ কোন দীনার বা দিরহাম ( টাকা-পয়সা ও ধনসম্পদ ) রেখে যান না । তারা মিরাছ হিসেবে রেখে যান শুধু ইলম । সুতরাং যে ব্যক্তি ইলম অর্জন করলো সে সৌভাগ্যের পূর্ণ অংশ গ্রহণ করলো । ( তথ্যসূত্র - আহমদ= হাদীস নং ২১২০৭- তিরমিজি= ২৬৮২- ইবনু মাজাহ =২২৩ )
পঞ্চম হাদীস :
عن ابى اما مة البا هلى (رض) قال : قا ل رسول الله صلى الله عليه وسلم : ذكر لرسول الله (ً ص) رجلان، احدهما عابد والا خر عا لم ، فقا ل رسول الله (ًص ) " ان الله وملائكته واهل السما وا ت والارض حتى النملة فى حجرها حتى الحوت ،ليصلون على معلم الناس الخير "_ 
(
তথ্যসূত্র : তিরমিজি
সূল (সা: ) এর নিকট দুজন ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচিত হলো । তাদের একজন আবেদ ( সাধারণ ইবাদতকারী ) আর অপরজন আলেম । ( কার ফজিলাত বেশি ?) রাসূল (সা:) বললেন : আবেদের উপর আলেমের শ্রেষ্ঠত্ব যেমন আমার শ্রেষ্ঠত্ব তোমাদের মধ্যে একজন সাধারণ ব্যক্তির উপর । অত:পর রাসূল (সা:) বললেন : আল্লাহ তায়ালা ও তার ফেরেস্তাগণ এবং আসমান যমিনের অধিবাসীরা এমনকি গর্তের পিপীলিকা ও পানির মাছ পর্যন্ত যে ব্যক্তি মানুষকে ভাল কথা বলে তথা ইলম শিক্ষা দিয়ে থাকেন ,তার জন্য দোওয়া করে ।। ( কার ফজিলাত বেশি ?) রাসূল (সা:) বললেন : আবেদের উপর আলেমের শ্রেষ্ঠত্ব যেমন আমার শ্রেষ্ঠত্ব তোমাদের মধ্যে একজন সাধারণ ব্যক্তির উপর । অত:পর রাসূল (সা:) বললেন : আল্লাহ তায়ালা ও তার ফেরেস্তাগণ
এবং আসমান যমিনের অধিবাসীরা এমনকি গর্তের পিপীলিকা ও পানির মাছ পর্যন্ত যে ব্যক্তি মানুষকে ভাল কথা বলে তথা ইলম শিক্ষা দিয়ে থাকেন ,তার জন্য দোওয়া করে । ( তথ্যসূত্র : তিরমিজি )
৬ষ্ঠ হাদীস : 
عن انس (رض) قا ل : قا ل رسول الله صلى الله عليه وسلم : " من خرج فى طلب العلم فهو فى سبيل الله " 
( رواه الترمذى ، رقم الحديث : 2647- والد ار مى )
অনুবাদ: আনাস ( রা : ) হতে বর্ণিত : তিনি বলেন-রাসূল (সা:) বলেছেন : যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণের লক্ষ্যে নিজ বাড়ি থেকে বের হলো , সে প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত আল্লাহর রাস্তায় রয়ে গেল ।’’
( তথ্যসূত্র : তিরমিজি=২৬৪৭ দারমি ।)
আহবান :

তাই আসুন ! আমরা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য হাছিলের চেতনা নিয়ে দ্বীনী জ্ঞান নিজে অর্জন করি এবং আমাদের সন্তানদের দ্বীনীশিক্ষায় শিক্ষিত করিমহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে নেক তাওফিক দান করুন । - আমীন

কাকে কাফের বলা যাবে?


Add caption















কাকে কাফের বলা যাবে?