বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান :
শেষ কিস্তি :
লক্ষ্য : শিকড়ের সন্ধানে
০৩. গণিত শাস্ত্রে মুসলমানদের অবদান :
ভূমিকা :
বিজ্ঞানে অংক শাস্ত্রের অবদান ‘মা’ এর
মতো । সকল বিজ্ঞানের সূত্রপাত অংক শাস্ত্র হতেই আরম্ভ হয় । মুসলিম যুগে অংক
শাস্ত্রের প্রাথমিক অনুপ্রেরণা আসে পবিত্র কুরআন হতে । আর সেই অনুপ্রেরণা হতে
শাস্ত্র চর্চার মর্যাদা লাভ করে অষ্টাদশ শতাব্দিতে । আলক্বুরআনে সংখ্যা চর্চা
বিষয়ক অনেক আয়াত আছে । এসব সংখ্যা বিষয়ের প্রেরণা মুসলিম বিজ্ঞানীদের গণিত চর্চায়
উদ্বুদ্ধ করেছে ।
গণিত শাস্ত্রের ক্রমবিকাশের যুগ :
আব্বাসীয় খলীফা আবুজাফর আল মনসুরের ( ৭৫৪-৭৭৫ খৃ: )
রাজত্বকাল থেকেই মুসলমানদের মাঝে গণিত শাস্ত্রের উপর গবেষণার সূত্রপাত হয় । খলীফা
আল মনসুরের আমলে আবু ইসহাক আলফাজারী নামে জনৈক পন্ডিত মনীষী গণিত ও জ্যোতিষ
শাস্ত্র নিয়ে গবেষণা শুরু করেন । ফলিত জ্যোতিষ শাস্ত্রে তাঁর চিন্তা ধারা ছিল খুব
উচ্চাঙ্গের । তিনি অংক শাস্ত্রের যন্ত্রপাতি এবং সে সন্বন্ধে পুস্তক প্রণয়ন করেন ।
তাঁর প্রণীত গ্রন্থ এখনও অনেক বিষয়ে প্রামাণ্য হিসেবে গৃহীত হয়ে থাকে । আলফাজারী
প্রথম আরব গণনা পদ্ধতি সুনিয়ন্ত্রিত করে আরব বর্ষ গণনা ও দিনপঞ্জি প্রণয়ন করেন ।
আলফাজারী ৭৭৭ খৃ: মৃত্যু বরণ করেন ।
মধ্যযুগে মুসলিম মনীষীবৃন্দ ভারত ও গ্রীক ভাষায় গণিত ও জ্যোতিষ শাস্ত্রের উপর রচিত বিভিন্ন গ্রন্থ আরবী ভাষায় অনুবাদ করেন । এসব অনূদিত গ্রন্থ মুসলিম বিজ্ঞানীদের গণিত ও জ্যেতিষ শাস্ত্র চর্চায় তাঁদের জ্ঞানের দ্বার উন্মোচিত করে ।
খলীফা হারুন ও মামুনের শাসনামলে মুসলিম বিজ্ঞানীরা গণিত, জ্যামিতি ও জ্যোতিষ শাস্ত্রে আধুনিক সভ্যতার লাইম লাইট নিয়ে আসেন । মূলত: হারুন-মামুনের শাসনামল ছিল গণিত, জ্যামিতি ও জ্যোতিষ শাস্ত্র চর্চার স্বর্ণযুগ । সে সময়ে যেসব মুসলিম বিজ্ঞানী আলোচ্চ শাস্ত্রের উৎকর্ষ সাধন করেন , তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন যথাক্রমে :
মধ্যযুগে মুসলিম মনীষীবৃন্দ ভারত ও গ্রীক ভাষায় গণিত ও জ্যোতিষ শাস্ত্রের উপর রচিত বিভিন্ন গ্রন্থ আরবী ভাষায় অনুবাদ করেন । এসব অনূদিত গ্রন্থ মুসলিম বিজ্ঞানীদের গণিত ও জ্যেতিষ শাস্ত্র চর্চায় তাঁদের জ্ঞানের দ্বার উন্মোচিত করে ।
খলীফা হারুন ও মামুনের শাসনামলে মুসলিম বিজ্ঞানীরা গণিত, জ্যামিতি ও জ্যোতিষ শাস্ত্রে আধুনিক সভ্যতার লাইম লাইট নিয়ে আসেন । মূলত: হারুন-মামুনের শাসনামল ছিল গণিত, জ্যামিতি ও জ্যোতিষ শাস্ত্র চর্চার স্বর্ণযুগ । সে সময়ে যেসব মুসলিম বিজ্ঞানী আলোচ্চ শাস্ত্রের উৎকর্ষ সাধন করেন , তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন যথাক্রমে :
০১. আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে মুসা আলখারেজমী :
( মৃত: ৮৭৪ খৃ: )
( মৃত: ৮৭৪ খৃ: )
আলখারেজমী পারস্যের খিবা প্রদেশের খারিজমে জন্ম গ্রহণ করেন
। আল খারেজমী ছিলেন গণিত শাস্ত্রের একজন কালজয়ী প্রতিভা । তাঁকে আধুনিক গণিত
শাস্ত্রের জনক বলা হয় । তিনি বীজগণিতকে অংক শাস্ত্রের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করত: গণিত
শাস্ত্রকে মর্যাদা সম্পন্ন করে তোলেন ।
আল খারেজমী প্রণীত গণিত শাস্ত্রের উপর গ্রন্থসমূহ :
০১. ইলমুল জাবের ওয়াল মুকাবিলা :
এটি বীজ গণিতের শ্রেষ্ঠতম গ্রন্থ । এ গ্রন্থের নাম আল জাবের
হতেই ইউরোপীয় অনুবাদকগণ ইংরেজিতে বীজ গণিতকে `Algebra’ নামে
অভিহিত করেছেন । এ গ্রন্থটি পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয় । আল খারেজমী রচিত এ
গ্রন্থটিকে বীজ গণিতের সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে । তিনি
জ্যামিতিকে ব্যবহার করেছেন বীজ গণিতের সমস্যা সমাধানে, তেমনিভাবে
শুদ্ধ গণিতকেও জ্যামিতির সমস্যা সমাধানে ব্যবহার করেছেন ।
এ ছাড়াও পাটিগণিতে তিনি “কিতাবুল হিন্দ” ও “আল জাম ওয়াত তাফরিক ” ইত্যাদি গ্রন্থ রচনা করেন । যা পরবর্তীতে রেফারেন্সর মর্যাদা লাভ করে ।
এ ছাড়াও পাটিগণিতে তিনি “কিতাবুল হিন্দ” ও “আল জাম ওয়াত তাফরিক ” ইত্যাদি গ্রন্থ রচনা করেন । যা পরবর্তীতে রেফারেন্সর মর্যাদা লাভ করে ।
গণিত শাস্ত্রে আলখারেজমীর উদ্ভাবন :
গণিত শাস্ত্রে আল খারেজমী সর্বপ্রথম শূণ্য বা জিরোর
আবিষ্কার করেন । পাটিগণিত ও বীজ গণিতের যাবতীয় সূত্র তিনিই প্রবর্তন করেন ।
এ ছাড়াও জ্যামিতিতে ত্রিভূজ, চতুর্ভূজ, বৃত্ত, পিরামিড প্রভতির আয়তন , পরিধি ইত্যাদি নিরূপনের প্রনালী নিয়ে আলোচনা করেছেন তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে ।
এ ছাড়াও জ্যামিতিতে ত্রিভূজ, চতুর্ভূজ, বৃত্ত, পিরামিড প্রভতির আয়তন , পরিধি ইত্যাদি নিরূপনের প্রনালী নিয়ে আলোচনা করেছেন তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে ।
আলখারেজমী ছাড়াও গণিত শাস্ত্রে মুসলিম বিজ্ঞানীদের নামসমূহ
:
• আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা আলমাহানী ।
• আল বিরুনী ।
• নাসির ইদ্দিন তুসী ।
• উমর খৈয়াম ।
• আব্দুল্লাহ আল বাত্তানী ।
• আবুল কাশেম আহমদ ।
• আবু জাফর মুহাম্মাদ ।
• হাসান ইবনে মুসা বিন শাকির ।
• আবুল হাসান সাবিত ইবনে কুরা ।
• আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ।
• আল কারখী ।
• হামিদ বিন খিযির ।
• আলী ইবনে আহমাদ আবুল হাসান আন্নাসাবী আলখোরাসানী ।
• আহমাদ ইবনে ইউনুস মিশরী
প্রমূখ গণিতবিদদের আবিষ্কৃত এলগোরিদম ও লগারিদমকে ভিত্তি করেই কম্পিউটার ল্যাঙ্গুয়েজ তৈরী হয় । বীজগণিত ও ত্রিকোণমিতির বিভিন্ন সূত্র ও সমস্যা সমাধানে মুসলিম গণিতবিদদের অবদান অগ্রগণ্য । গোলাকার ত্রিকোণমিতির সূত্রপাত, ত্রিকোণমিতিতে সাইন, কোসাইন , ট্রানজেন্টের ব্যবহার, বিভিন্ন কোসাইন সূত্র ইত্যাদি মুসলিম গণিতবিদদেরই অবদান ।
• আল বিরুনী ।
• নাসির ইদ্দিন তুসী ।
• উমর খৈয়াম ।
• আব্দুল্লাহ আল বাত্তানী ।
• আবুল কাশেম আহমদ ।
• আবু জাফর মুহাম্মাদ ।
• হাসান ইবনে মুসা বিন শাকির ।
• আবুল হাসান সাবিত ইবনে কুরা ।
• আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ।
• আল কারখী ।
• হামিদ বিন খিযির ।
• আলী ইবনে আহমাদ আবুল হাসান আন্নাসাবী আলখোরাসানী ।
• আহমাদ ইবনে ইউনুস মিশরী
প্রমূখ গণিতবিদদের আবিষ্কৃত এলগোরিদম ও লগারিদমকে ভিত্তি করেই কম্পিউটার ল্যাঙ্গুয়েজ তৈরী হয় । বীজগণিত ও ত্রিকোণমিতির বিভিন্ন সূত্র ও সমস্যা সমাধানে মুসলিম গণিতবিদদের অবদান অগ্রগণ্য । গোলাকার ত্রিকোণমিতির সূত্রপাত, ত্রিকোণমিতিতে সাইন, কোসাইন , ট্রানজেন্টের ব্যবহার, বিভিন্ন কোসাইন সূত্র ইত্যাদি মুসলিম গণিতবিদদেরই অবদান ।
০৪. জ্যোতির্বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান :
জ্যোতির্বিজ্ঞানে মুসলিম মনীষীদের অবদান অবিস্মরণীয় ।
• আলফারগামী ( মৃত: ৬৭০ খৃ: ) সর্বপ্রথম গণিতের সাহায়্যে জ্যোতির্বিদ্যার আলোচনা করেন ।
• বানু মুসা ভ্রাতৃত্রয় ( ৯ম শতাব্দী ) ক্রান্তিবৃন্তের তীর্যকতা , পৃথিবী কক্ষের অপভৃ ও অনভৃ নির্ণয় করেন ।
• ছাবিত ইবনে কুরা ( ৮২৬-৯০১ খৃ: ) সৌর বৎসরের দৈর্ঘ নির্ণয় করেন ।
• আলবাত্তানী ( ৮৫৮- ৯২৯ খৃ: ) জ্যোতির্বিজ্ঞানের যে তালিকা প্রনয়ন করেন “জিজ আল শামিল” নামে আজও তা পরিচিত ।
• আল বিরুনী ( ৯৭৩- ১০৪৮ খৃ: ) চন্দ্রের লন্বন, কোন স্থানের দ্রাঘিমা ও অক্ষরেখা নির্ণয় ও দিগংশ স্থানাংক আবিষ্কার করেন ।
• আলফারগামী ( মৃত: ৬৭০ খৃ: ) সর্বপ্রথম গণিতের সাহায়্যে জ্যোতির্বিদ্যার আলোচনা করেন ।
• বানু মুসা ভ্রাতৃত্রয় ( ৯ম শতাব্দী ) ক্রান্তিবৃন্তের তীর্যকতা , পৃথিবী কক্ষের অপভৃ ও অনভৃ নির্ণয় করেন ।
• ছাবিত ইবনে কুরা ( ৮২৬-৯০১ খৃ: ) সৌর বৎসরের দৈর্ঘ নির্ণয় করেন ।
• আলবাত্তানী ( ৮৫৮- ৯২৯ খৃ: ) জ্যোতির্বিজ্ঞানের যে তালিকা প্রনয়ন করেন “জিজ আল শামিল” নামে আজও তা পরিচিত ।
• আল বিরুনী ( ৯৭৩- ১০৪৮ খৃ: ) চন্দ্রের লন্বন, কোন স্থানের দ্রাঘিমা ও অক্ষরেখা নির্ণয় ও দিগংশ স্থানাংক আবিষ্কার করেন ।
০৫. পদার্থ বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান :
পদার্থ বিজ্ঞানে মুসলিম বিজ্ঞানীদের মধ্যে ইবনে আল হাইয়্যান
( ৯৬৫- ১০৪৪ খৃ: ) এর নাম সবিশেষ উল্লেখযোগ্য । তাঁকে অপটিকমের জনক বলা হয় ।
• আল বিরুনী ( ৯৭৩- ১০৪৮ খৃ: ) পদার্থের তুল্য ওজন পরিমাপ
করেন ।
• বানু মুসা ভ্রাতৃত্রয় ( ৯ম শতাব্দী ) ,
• আল ফারাজী ( ৮৭২- ৯৫০ খৃ: ) ,
• আল খাজেনী ( ১২শ শতাব্দী ) ,
• ইবনে ইউনুস ( মৃত: ১০০৯ খৃ: ) ,
• ইবনে মাসউদ আল সিরাজী ( ১২৩৬- ১৩৩১ খৃ: )
প্রমূখ বিজ্ঞনীগণ বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় বিশেষ অবদান রাখেন ।
• বানু মুসা ভ্রাতৃত্রয় ( ৯ম শতাব্দী ) ,
• আল ফারাজী ( ৮৭২- ৯৫০ খৃ: ) ,
• আল খাজেনী ( ১২শ শতাব্দী ) ,
• ইবনে ইউনুস ( মৃত: ১০০৯ খৃ: ) ,
• ইবনে মাসউদ আল সিরাজী ( ১২৩৬- ১৩৩১ খৃ: )
প্রমূখ বিজ্ঞনীগণ বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় বিশেষ অবদান রাখেন ।
০৬. ভূগোল শাস্ত্রে মুসলমানদের অবদান :
ভূগোল শাস্ত্রে মুসলিম ভূগোলবিদদের অবদান অনস্বিকার্য ।
তাঁরাই সর্বপ্রথম ভৌগলিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ভূতত্ত্ব অনুশীলন এবং এ শাস্ত্রকে
মর্যাদার আসনে সমাসীন করেন । মুসলমানরা বিভিন্ন রাজ্য বিজয়ের কারণে ভূগোল শাস্ত্র
জানতে অনুপ্রাণীত হন । তাঁরাই সর্বপ্রথম “ সূরত
আল আরদা ” তথা পৃথিবীর মানচিত্র এবং ভূকম্পাস আবিষ্কার করেন ।
আলখারেজমী, আল মাসউদী , ইবনে বুত্তা, আল বিরুনী, আল মুকাদ্দাসী, উমর খৈয়াম ও ইয়াকুত ইবনে আব্দুল্লাহ এ বিষয়ে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন ।
আলখারেজমী, আল মাসউদী , ইবনে বুত্তা, আল বিরুনী, আল মুকাদ্দাসী, উমর খৈয়াম ও ইয়াকুত ইবনে আব্দুল্লাহ এ বিষয়ে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন ।
এ ছাড়াও মুসলিম মনীষীগণ দর্শন, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, প্রত্নতত্ত্ব, স্থাপত্যশিল্প
ও সাহিত্য-সংস্কৃতিতে ছিলেন অগ্রপথিক । কালক্রমে মুসলিম জ্ঞান-বিজ্ঞানের
উত্তরাধিকারী হয় ইউরোপ । তারা এসব জ্ঞান-বিজ্ঞানের উত্তরাধিকারী হয়ে মুসলিম
বিজ্ঞানীদের নাম পরিবর্তন বা বিকৃত করত: নিজেদের নামে চালিয়ে দিয়েছে । তার পরও
অনেক অমুসলিম ঐতিহাসিক তাদের রচিত গ্রন্থে জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান অকপটে
স্বীকার করেছেন । - ( সমাপ্ত )
-উপস্থাপক
মো: ইসহাক মিয়া
সহকারী অধ্যাপক ( কামিল হাদীস বিভাগ )
বিজুল দারুল হুদা কামিল স্নাতকোত্তর মাদরাসা
বিরামপুর, দিনাজপুর ।
মো: ইসহাক মিয়া
সহকারী অধ্যাপক ( কামিল হাদীস বিভাগ )
বিজুল দারুল হুদা কামিল স্নাতকোত্তর মাদরাসা
বিরামপুর, দিনাজপুর ।
